2024 মাধ্যমিক ইতিহাস প্রশ্নপত্রের সমাধান

মাধ্যমিক ২০২৪ — ইতিহাস সমাধান (সম্পূর্ণ)

বিষয়: ইতিহাস (History)
পরীক্ষা: মাধ্যমিক ২০২৪ (WBBSE)


বিভাগ ‘ক’ — সঠিক উত্তর নির্বাচন (১ × ২০ = ২০)

১.১ উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী যুক্ত ছিলেন –
(ক) শহরের ইতিহাসে
(খ) স্থানীয় ইতিহাসে
(গ) শিল্পচর্চার ইতিহাসে
(ঘ) বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিদ্যার ইতিহাসে
উত্তর: (ঘ) বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিদ্যার ইতিহাসে

১.২ ‘নদীয়া কাহিনী’ গ্রন্থটি রচনা করেন –
(ক) নিখিলনাথ রায়
(খ) কুমুদরঞ্জন মল্লিক
(গ) সতীশচন্দ্র মিত্র
(ঘ) কুমুদনাথ মল্লিক
উত্তর: (ঘ) কুমুদনাথ মল্লিক

১.৩ ‘কাউন্সিল অফ এডুকেশন’ গঠিত হয় –
(ক) ১৮১৩ খ্রিঃ
(খ) ১৮২৩ খ্রিঃ
(গ) ১৮৩৫ খ্রিঃ
(ঘ) ১৮৪২ খ্রিঃ
উত্তর: (ঘ) ১৮৪২ খ্রিঃ

১.৪ ‘স্ত্রীশিক্ষা বিধায়ক’ পুস্তিকাটি প্রকাশিত হয় –
(ক) ১৮১৭ খ্রিঃ
(খ) ১৮২২ খ্রিঃ
(গ) ১৮২৩ খ্রিঃ
(ঘ) ১৮৩৫ খ্রিঃ
উত্তর: (খ) ১৮২২ খ্রিঃ

১.৫ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভারতীয় উপাচার্য ছিলেন –
(ক) স্যার রমেশচন্দ্র মিত্র
(খ) স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
(গ) স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
(ঘ) স্যার জেমস উইলিয়াম কোলভিল
উত্তর: (গ) স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়

১.۶ ঔপনিবেশিক অরণ্য আইনের (১৮৭৮) বিরুদ্ধে সংঘটিত আদিবাসী বিদ্রোহ –
(ক) সাঁওতাল হুল
(খ) মুণ্ডা বিদ্রোহ
(গ) কোল বিদ্রোহ
(ঘ) রম্পা বিদ্রোহ
উত্তর: (ঘ) রম্পা বিদ্রোহ

১.৭ দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস চৌগাছা গ্রামটি ছিল –
(ক) পাবনা জেলায়
(খ) খুলনা জেলায়
(গ) নদিয়া জেলায়
(ঘ) ফরিদপুর জেলায়
উত্তর: (গ) নদিয়া জেলায়

১.৮ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ‘উন্নততর ভারতশাসন আইন’ পাশ করেছিল –
(ক) ১৫ জুলাই, ১৮৫৮
(খ) ২ আগস্ট, ১৮৫৮
(গ) ১০ অক্টোবর, ১৮৫৮
(ঘ) ৫ ডিসেম্বর, ১৮৫৮
উত্তর: (খ) ২ আগস্ট, ১৮৫৮

১.৯ ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হল –
(ক) ভারত সভা
(খ) বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা
(গ) ল্যান্ড হোল্ডার্স সোসাইটি
(ঘ) ভারতের জাতীয় কংগ্রেস
উত্তর: (খ) বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা

১.১০ নবগোপাল মিত্র ছিলেন হিন্দুমেলার –
(ক) সভাপতি
(খ) সহ-সভাপতি
(গ) সম্পাদক
(ঘ) সহ-সম্পাদক
উত্তর: (ঘ) সহ-সম্পাদক

১.১১ জগদীশচন্দ্র বসু অধ্যাপক ছিলেন –
(ক) গণিত শাস্ত্রের
(খ) রসায়ন শাস্ত্রের
(গ) পদার্থ বিদ্যার
(ঘ) জীববিদ্যার
উত্তর: (গ) পদার্থ বিদ্যার

১.১২ বাংলা ভাষায় প্রথম সচিত্র পুস্তক প্রকাশ করেন –
(ক) উইলিয়ম কেরি
(খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
(গ) গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
(ঘ) উপেন্দ্র কিশোর রায়চৌধুরী
উত্তর: (গ) গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য

১.১৩ সর্বভারতীয় কিষাণ সভার প্রথম সভাপতি ছিলেন –
(ক) বাবা রামচন্দ্র
(খ) এন. জি. রঙ্গ
(গ) স্বামী সহজানন্দ
(ঘ) ফজলুল হক
উত্তর: (গ) স্বামী সহজানন্দ (স্বামী সহজানন্দ সরস্বতী)

১.১৪ মতিলাল তেজওয়াত নেতৃত্ব দিয়েছিলেন –
(ক) বিহারে
(খ) গুজরাটে
(গ) রাজস্থানে
(ঘ) যুক্তপ্রদেশে
উত্তর: (গ) রাজস্থানে

১.১৫ গিরনি কামগড় ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল –
(ক) ১৯১৮ খ্রিঃ
(খ) ১৯২২ খ্রিঃ
(গ) ১৯২৮ খ্রিঃ
(ঘ) ১৯৩২ খ্রিঃ
উত্তর: (গ) ১৯২৮ খ্রিঃ

১.১৬ ভোগেশ্বরী ফুকোননী শহীদ হয়েছিলেন –
(ক) গুজরাটে
(খ) পাঞ্জাবে
(গ) আসামে
(ঘ) উড়িষ্যায়
উত্তর: (গ) আসামে

১.১৭ অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটির সম্পাদক ছিলেন –
(ক) শচীন্দ্র প্রসাদ বসু
(খ) কৃষ্ণকুমার মিত্র
(গ) চিত্তরঞ্জন দাস
(ঘ) আনন্দমোহন বসু
উত্তর: (ক) শচীন্দ্র প্রসাদ বসু

১.১৮ বীণা দাস স্ট্যান্সী জ্যাকসনকে হত্যা করার চেষ্টা করেন –
(ক) ১৯২৮ খ্রিঃ
(খ) ১৯৩০ খ্রিঃ
(গ) ১৯৩২ খ্রিঃ
(ঘ) ১৯৩৬ খ্রিঃ
উত্তর: (গ) ১৯৩২ খ্রিঃ

১.১৯ স্বাধীন ভারতের প্রথম গান্ধীবাদী শহীদ ছিলেন –
(ক) হৃদয়নাথ কুঞ্জরু
(খ) বল্লভ ভাই প্যাটেল
(গ) পত্তি শ্রীরামালু
(ঘ) পট্টভি সীতারামাইয়া
উত্তর: (গ) পত্তি শ্রীরামালু

১.২০ গোয়া ভারতভুক্ত হয় –
(ক) ১৯৪৭ খ্রিঃ
(খ) ১৯৫৬ খ্রিঃ
(গ) ১৯৬১ খ্রিঃ
(ঘ) ১৯৭১ খ্রিঃ
উত্তর: (গ) ১৯৬১ খ্রিঃ


বিভাগ ‘খ’ — সংক্ষিপ্ত উত্তর (১ × ১৬ = ১৬)

উপবিভাগ ২.১ — একটি বাক্যে উত্তর দাও (১ × ৪ = ৪)

২.১.১ কোন দিনটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবস রূপে উদ্যাপন করা হয়?
উত্তর: ৫ই জুন দিনটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবস রূপে উদ্যাপন করা হয়।

২.১.২ সরকারী নথিপত্র কোথায় সংরক্ষিত হয়?
উত্তর: সরকারী নথিপত্র জাতীয় লেখ্যাগার বা মহাফেজখানায় (National Archives) সংরক্ষিত হয়।

২.১.৩ কোন বছর নারী সত্যাগ্রহ সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আইন অমান্য আন্দোলনের সময় নারী সত্যাগ্রহ সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

২.১.৪ বিশ্বভারতী কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন।

উপবিভাগ ২.২ — ঠিক বা ভুল নির্ণয় করো (১ × ৪ = ৪)

২.২.১ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন সীমাবদ্ধ ছিল কৃষকশ্রেণির মধ্যে।
উত্তর: ভুল। (এই আন্দোলন মূলত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও ছাত্রসমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল)।

২.২.২ নীলবিদ্রোহের অন্যতম নেতা ছিলেন বিশ্বনাথ সর্দার।
উত্তর: ঠিক। (তিনি বিশে ডাকাত নামেও পরিচিত ছিলেন)।

২.২.৩ ফরাজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন দুদুমিঞা।
উত্তর: ভুল। (ফরাজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হাজি শরিয়তউল্লাহ)।

২.২.৪ ‘দি বেঙ্গলী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
উত্তর: ঠিক।

উপবিভাগ ২.৩ — ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও (১ × ৪ = ৪)

প্রশ্ন:
| ‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ |
|—|—|
| ২.৩.১ লর্ড রিপন | (১) বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট |
| ২.৩.২ নেলী সেনগুপ্ত | (২) সাধারণ জনশিক্ষা কমিটি |
| ২.৩.৩ লর্ড আমহার্স্ট | (৩) হান্টার কমিশন |
| ২.৩.৪ তারকনাথ পালিত | (৪) স্টিমলঞ্চ শ্রমিক ধর্মঘট |

উত্তর:
| ‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ |
|—|—|
| ২.৩.১ লর্ড রিপন | (৩) হান্টার কমিশন |
| ২.৩.২ নেলী সেনগুপ্ত | (৪) স্টিমলঞ্চ শ্রমিক ধর্মঘট |
| ২.৩.৩ লর্ড আমহার্স্ট | (২) সাধারণ জনশিক্ষা কমিটি |
| ২.৩.৪ তারকনাথ পালিত | (১) বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট |

উপবিভাগ ২.৪ — মানচিত্র চিহ্নিতকরণ (১ × ৪ = ৪)

২.৪.১ চুয়াড় বিদ্রোহের (১৭৯৮-১৭৯৯) এলাকা — মেদিনীপুর / জঙ্গলমহল অঞ্চল
২.৪.২ মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) একটি কেন্দ্র- কানপুর — উত্তরপ্রদেশের মধ্যভাগ
২.৪.৩ মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) একটি কেন্দ্র- দিল্লী — যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত
২.৪.৪ পুনর্গঠিত রাজ্য কেরল — ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল

অথবা (কেবলমাত্র দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের জন্য):
২.৪.১ ভারতের প্রথম ভাইসরয় ছিলেন — লর্ড ক্যানিং
২.৪.২ কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় — ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে।
২.৪.৩ ‘গোরা’ উপন্যাসটি রচনা করেন — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২.৪.৪ হরিসিং ছিলেন কাশ্মীরের — মহারাজা

উপবিভাগ ২.৫ — বিবৃতির সঙ্গে সঠিক ব্যাখ্যা নির্বাচন করো (১ × ৪ = ৪)

২.৫.১ বিবৃতি: হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে।
ব্যাখ্যা ১: হিন্দুশাস্ত্রে শিক্ষাদান করা।
ব্যাখ্যা ২: হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সহ-শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান।
ব্যাখ্যা ৩: সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের ছাত্রদের আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করা।
উত্তর: সঠিক ব্যাখ্যা ৩ — সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের ছাত্রদের আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করা।

২.৫.২ বিবৃতি: বারদৌলি সত্যাগ্রহ আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে।
ব্যাখ্যা ১: কারখানার মালিকশ্রেণির শোষণের বিরুদ্ধে শ্রমিকশ্রেণির আন্দোলন।
ব্যাখ্যা ২: সরকারি রাজস্ববৃদ্ধির বিরুদ্ধে ধনী কৃষকশ্রেণি ও কৃষিশ্রমিকদের যৌথ আন্দোলন।
ব্যাখ্যা ৩: ঋণ-দাস কৃষিশ্রমিকদের ধনী কৃষকশ্রেণির শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন।
উত্তর: সঠিক ব্যাখ্যা ২ — সরকারি রাজস্ববৃদ্ধির বিরুদ্ধে ধনী কৃষকশ্রেণি ও কৃষিশ্রমিকদের যৌথ আন্দোলন।

২.৫.৩ বিবৃতি: দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল ছিলেন বাংলার একজন জনপ্রিয় নেতা।
ব্যাখ্যা ১: অসহযোগ আন্দোলনের সময় মেদিনীপুরে কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব।
ব্যাখ্যা ২: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্ব।
ব্যাখ্যা ৩: বাংলায় ভারতছাড়ো আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
উত্তর: সঠিক ব্যাখ্যা ১ — অসহযোগ আন্দোলনের সময় মেদিনীপুরে কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব।

২.৫.৪ বিবৃতি: ১২ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৬ দিনটি রসিদ আলি দিবস রূপে পালিত হয়।
ব্যাখ্যা ১: রসিদ আলি ছিলেন ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের শহীদ।
ব্যাখ্যা ২: রসিদ আলি ছিলেন একজন জনপ্রিয় ছাত্রনেতা।
ব্যাখ্যা ৩: রসিদ আলি ছিলেন আজাদ হিন্দ বাহিনীর ক্যাপ্টেন।
উত্তর: সঠিক ব্যাখ্যা ৩ — রসিদ আলি ছিলেন আজাদ হিন্দ বাহিনীর ক্যাপ্টেন।


বিভাগ ‘গ’ — সংক্ষিপ্ত উত্তর (২ × ১১ = ২২)

(সবকটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হল)

৩.১ পরিবেশের ইতিহাস বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির অতীত সম্পর্ক, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং পরিবেশ রক্ষায় মানুষের বিভিন্ন আন্দোলন ও সচেতনতা নিয়ে ইতিহাসের যে শাখায় আলোচনা করা হয়, তাকে পরিবেশের ইতিহাস বলে। নর্মদা বাঁচাও বা চিপকো আন্দোলন এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

৩.২ আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে আত্মজীবনীর গুরুত্ব কী?
উত্তর: আত্মজীবনী থেকে সমকালীন সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক অবস্থার প্রত্যক্ষ ও নির্ভরযোগ্য বিবরণ পাওয়া যায়। বিপিনচন্দ্র পালের ‘সত্তর বৎসর’ বা রবীন্দ্রনাথের ‘জীবনস্মৃতি’-র মতো আত্মজীবনীগুলি আধুনিক ইতিহাস রচনার গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উপাদান।

৩.৩ পাশ্চাত্য শিক্ষা-বিস্তারে ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দ গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর: ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের চার্টার অ্যাক্ট বা সনদ আইনে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ভারতীয়দের শিক্ষাবিস্তারে বার্ষিক এক লক্ষ টাকা ব্যয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। এটিই ছিল ভারতে সরকারি উদ্যোগে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

৩.৪ আধুনিক পাশ্চাত্য চিকিৎসা বিদ্যার ক্ষেত্রে ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দ স্মরণীয় কেন?
উত্তর: ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা মেডিকেল কলেজে মধুসূদন গুপ্ত প্রথম শবব্যবচ্ছেদ (Dissection) করেন। কুসংস্কার ভেদ করে চিকিৎসাবিদ্যার এই ব্যবহারিক প্রয়োগ ভারতীয় চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

৩.৫ ‘পাইক’ কাদের বলা হত?
উত্তর: ঔপনিবেশিক ভারতে মূলত জমিদারদের লাঠিয়াল বা পদাতিক রক্ষী বাহিনীকে ‘পাইক’ বলা হত। চুয়াড় বিদ্রোহ ও ওড়িশার পাইক বিদ্রোহের সময় এই পাইকরাই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রধান সামরিক শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

৩.৬ ‘হেদায়তী’ নামে কারা পরিচিত ছিল?
উত্তর: বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতা তিতুমিরের অনুগামীরা নিজেদের ‘হেদায়তী’ বা সঠিক পথের পথিক বলে পরিচয় দিতেন। এরা ইসলামের শুদ্ধিকরণের পাশাপাশি জমিদার ও নীলকরদের শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।

৩.৭ ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থটি কীভাবে জাতীয়তাবাদ উন্মেষে সাহায্য করেছিল?
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থে ভারতের অতীত গৌরব, পরাধীনতার গ্লানি এবং শূদ্র জাগরণের কথা বলা হয়েছে। এই গ্রন্থটি দেশবাসীকে, বিশেষ করে যুবসমাজকে আত্মবিশ্বাসী ও স্বাদেশিকতায় উদ্বুদ্ধ করে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটিয়েছিল।

৩.৮ গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর স্মরণীয় কেন?
উত্তর: গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন আধুনিক ভারতীয় ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুন শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর ‘অদ্ভুত লোক’, ‘বিরূপ বজ্র’ প্রভৃতি কার্টুনের মাধ্যমে তিনি ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন এবং তৎকালীন বাবু সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

৩.৯ ‘বিদ্যাসাগর সাট’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা বর্ণমালাকে নতুনভাবে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সাজান এবং যুক্তাক্ষরগুলিকে সরল করেন। ছাপাখানায় বিদ্যাসাগর প্রবর্তিত এই নতুন ধরনের টাইপ বা সুন্দর ও স্পষ্ট অক্ষর বিন্যাসই ‘বিদ্যাসাগর সাট’ (Vidyasagar Set) নামে পরিচিত।

৩.১০ বাংলা ছাপাখানার ইতিহাসে বটতলা প্রকাশনার গুরুত্ব কী?
উত্তর: উনিশ শতকে কলকাতার বটতলা অঞ্চলে দেশীয় মালিকানায় অসংখ্য ছাপাখানা গড়ে ওঠে যেখান থেকে সস্তায় প্রচুর বই, পুঁথি ও পঞ্জিকা প্রকাশিত হত। সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে সুলভে বই পৌঁছে দিয়ে বটতলা প্রকাশনা শিক্ষাপ্রসারে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল।

৩.১১ কৃষক আন্দোলনে বাবা রামচন্দ্রের কীরূপ ভূমিকা ছিল?
উত্তর: ১৯২০-এর দশকে বাবা রামচন্দ্র যুক্তপ্রদেশে (বর্তমান উত্তরপ্রদেশ) কিষাণ সভা গঠন করেন। তিনি কৃষকদের অতিরিক্ত খাজনা, অবৈধ কর এবং বেগার খাটার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ করে এক বিশাল ও শক্তিশালী কৃষক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।

৩.১২ সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস কী উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করা, কাজের সময় কমানো, মজুরি বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার আদায়ের উদ্দেশ্যে লালা লাজপত রায়ের সভাপতিত্বে সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (AITUC) প্রতিষ্ঠিত হয়।

৩.১৩ জাতীয় আন্দোলনে সরলাদেবী চৌধুরাণী কীরূপ ভূমিকা ছিল?
উত্তর: সরলাদেবী চৌধুরাণী ‘ভারতী’ পত্রিকার সম্পাদনা করেন এবং যুবসমাজকে শরীরচর্চা ও স্বাদেশিকতায় উদ্বুদ্ধ করতে ‘বীরাষ্টমী ব্রত’ ও ‘প্রতাপাদিত্য উৎসব’ চালু করেছিলেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার স্থাপন করে তিনি স্বদেশি শিল্পেরও প্রচার করেন।

৩.১৪ সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে ‘ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি’র কীরূপ ভূমিকা ছিল?
উত্তর: ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে গঠিত এই বিপ্লবী দলটি চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করে। তারা চট্টগ্রামে ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদ করে সাময়িকভাবে একটি স্বাধীন জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা করে বীরত্বের অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

৩.১৫ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে ‘ভারতের লৌহমানব’ কেন বলা হয়?
উত্তর: স্বাধীনতার পর ৫৬৫টি দেশীয় রাজ্যকে কূটনীতি ও প্রয়োজনে শক্তির সাহায্যে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল অসীম সাহসিকতা ও কঠোর দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিলেন, তাই তাঁকে ভারতের লৌহমানব বলা হয়।

৩.১৬ উদ্বাস্তু সমস্যা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের ফলে লক্ষ লক্ষ হিন্দু ও শিখ পাকিস্তান থেকে সর্বস্বান্ত হয়ে ভারতে পালিয়ে আসে। এই ছিন্নমূল মানুষদের পুনর্বাসন, খাদ্য, কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে যে তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়, তাকেই উদ্বাস্তু সমস্যা বলা হয়।


বিভাগ ‘ঘ’ — বিশ্লেষণধর্মী উত্তর (৪ × ৬ = ২৪)

(সবকটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হল)

উপবিভাগ: ঘ.১

৪.১ উনিশ শতকের বাংলায় নারীসমাজের বিকাশে ‘বামাবোধিনী পত্রিকা’র ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
ভূমিকা: ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে উমেশচন্দ্র দত্তের সম্পাদনায় ‘বামাবোধিনী পত্রিকা’ প্রকাশিত হয়। নারীসমাজের অধিকার রক্ষা ও উন্নতির ক্ষেত্রে এই পত্রিকা নবজাগরণের আলো নিয়ে আসে।
নারীশিক্ষার প্রসার: এই পত্রিকা সমাজে নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এবং মেয়েদের জন্য স্কুল-কলেজ স্থাপনের জোরদার দাবি জানায়।
কুসংস্কার দূরীকরণ: বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও কৌলীন্য প্রথার মতো অমানবিক প্রথাগুলির তীব্র সমালোচনা করে পত্রিকাটি নারীসমাজের সার্বিক মুক্তির পক্ষে সওয়াল করে।
নারীর নিজস্ব মতপ্রকাশ: এই পত্রিকায় নারীরা নিজেদের লেখা প্রবন্ধ ও কবিতা প্রকাশের সুযোগ পেতেন, যা তাঁদের চিন্তাশীলতা, স্বনির্ভরতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছিল।
উপসংহার: উনিশ শতকের বাংলায় অবহেলিত নারীসমাজকে শিক্ষার আলোয় এনে আত্মসচেতন করে তুলতে এবং সমাজ সংস্কারে বামাবোধিনী পত্রিকার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

৪.২ ধর্মসংস্কার আন্দোলনে স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তাধারা বিশ্লেষণ করো।
ভূমিকা: উনিশ শতকের বাংলায় ধর্মসংস্কার আন্দোলনে স্বামী বিবেকানন্দের নব্য বেদান্তবাদ বা মানবতাবাদী চিন্তাধারা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
নব্য বেদান্ত: তিনি প্রাচীন বেদান্তের তাত্ত্বিক দিকটিকে বাস্তব ও ব্যবহারিক রূপ দিয়ে ‘নব্য বেদান্ত’ প্রচার করেন, যার মূল কথা হল— মানুষই ঈশ্বর বা জীবে প্রেমই ঈশ্বর আরাধনা।
সমন্বয়বাদী আদর্শ: শ্রীরামকৃষ্ণের ‘যত মত তত পথ’ আদর্শকে ভিত্তি করে তিনি সব ধর্মের মূল সত্য যে এক, তা শিকাগো ধর্ম মহাসভায় (১৮৯৩) বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন।
জাতীয়তাবাদের বিকাশ: বিবেকানন্দের ধর্মচিন্তা কোনো সংকীর্ণ আচার-অনুষ্ঠানে আবদ্ধ ছিল না। দরিদ্র ও অবহেলিত দেশবাসীকে তিনি ‘দরিদ্র নারায়ণ’ জ্ঞানে সেবা করার ডাক দিয়েছিলেন, যা ভারতবাসীকে স্বাদেশিকতায় ও আত্মবিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
উপসংহার: স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মসংস্কার ছিল মূলত সমাজসংস্কার ও জাতীয়তাবাদী জাগরণ। ভগিনী নিবেদিতার কথায়, “ভারতবর্ষই ছিল বিবেকানন্দের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম।”

উপবিভাগ: ঘ.২

৪.৩ মহাবিদ্রোহ (১৮৫৭) কে কী ‘সামন্ততান্ত্রিক বিদ্রোহ’ বলা যেতে পারে?
ভূমিকা: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে নানা মতভেদ রয়েছে। অনেক ঐতিহাসিক এই বিদ্রোহকে একটি ‘সামন্ততান্ত্রিক বিদ্রোহ’ (Feudal Revolt) বা সাবেকি রক্ষণশীলদের বিদ্রোহ বলে অভিহিত করেছেন।
সামন্ত প্রভুদের নেতৃত্ব: এই বিদ্রোহের মূল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নানা সাহেব, ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই, তাঁতিয়া তোপি, কুনওয়ার সিং প্রমুখ দেশীয় রাজা ও জমিদাররা। এঁরা সকলেই ছিলেন সামন্ত শ্রেণির প্রতিনিধি।
স্বার্থরক্ষার লড়াই: এই সামন্ত রাজারা ব্রিটিশদের স্বত্ববিলোপ নীতি বা অতিরিক্ত কর আদায়ের ফলে নিজেদের জমিদারি ও ক্ষমতা হারিয়েছিলেন। ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্যই তাঁরা এই বিদ্রোহে যোগ দেন।
জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততার অভাব: অনেক ঐতিহাসিকের মতে, এই বিদ্রোহে আধুনিক জাতীয়তাবাদের কোনো ধারণা ছিল না এবং শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ এই বিদ্রোহ থেকে দূরে ছিল।
উপসংহার: যদিও বিদ্রোহের নেতৃত্ব সামন্ত প্রভুদের হাতে ছিল, তবুও সাধারণ কৃষক ও সিপাহিদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এটিকে নিছক একটি সামন্ত বিদ্রোহের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত করেছিল।

৪.৪ উনিশ শতকের জাতীয়তাবাদের বিকাশে ‘ভারতমাতা’ চিত্রটির অবদান কী ছিল?
ভূমিকা: ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের উত্তাল প্রেক্ষাপটে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ভারতমাতা’ ছবিটি অঙ্কন করেন, যা পরাধীন ভারতে স্বদেশপ্রেমের প্রতীকে পরিণত হয়।
স্বদেশি আদর্শের প্রতীক: এই চিত্রে ভারতমাতাকে চতুর্ভূজা হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং তাঁর চার হাতে রয়েছে বেদ, ধানের শিষ, জপমালা ও শ্বেতবস্ত্র। এগুলি ভারতের নিজস্ব আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, অন্ন, ধর্ম ও বস্ত্রের প্রতীক।
জাতীয়তাবাদের জাগরণ: ছবিটি ব্রিটিশ শৃঙ্খলমুক্ত এক শান্ত, সমাহিত ও ঐশ্বরিক মাতৃমূর্তির ধারণা দেয়। এটি দেশবাসীকে অহিংস দেশপ্রেমে এবং আত্মত্যাগে গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
উপসংহার: ভগিনী নিবেদিতা এই চিত্রটিকে জাতীয়তাবাদের প্রথম সার্থক শিল্পরূপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্বদেশি যুগে এবং পরবর্তী স্বাধীনতা সংগ্রামে এটি জাতীয় চেতনার এক শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল।

উপবিভাগ: ঘ.৩

৪.৫ একা আন্দোলনের একটি সমালোচনামূলক বিবরণ দাও।
ভূমিকা: ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে যুক্তপ্রদেশের (বর্তমান উত্তরপ্রদেশ) হরদোই, সীতাপুর, বারাবাঁকি প্রভৃতি অঞ্চলে কৃষকরা যে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তা ‘একা’ বা ‘একতা আন্দোলন’ নামে পরিচিত।
কারণ: জমিদারদের অতিরিক্ত খাজনা আদায় (নির্ধারিত খাজনার চেয়ে প্রায় ৫০% বেশি), বেগার খাটানো এবং উৎপাদিত ফসলের বদলে নগদে খাজনা নেওয়ার সরকারি নির্দেশের বিরুদ্ধেই এই আন্দোলন শুরু হয়।
নেতৃত্ব ও কর্মসূচি: মাদারী পাসি নামক এক নিম্নবর্ণের নেতার নেতৃত্বে কৃষকরা একজোট হয়ে শপথ নেন যে তাঁরা নির্দিষ্ট খাজনার বেশি এক পয়সাও দেবেন না, বেগার খাটবেন না এবং পুলিশ বা জমিদারের কাছে নতিস্বীকার করবেন না।
উপসংহার: অহিংস পথে শুরু হলেও এই আন্দোলন ক্রমশ হিংসাত্মক আকার ধারণ করে। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ সরকারের চরম দমননীতি এবং মাদারী পাসির গ্রেপ্তারের ফলে আন্দোলনটি স্তিমিত হয়ে পড়ে।

৪.৬ কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
ভূমিকা: ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বামপন্থী ও সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী তরুণ নেতাদের দ্বারা কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল (Congress Socialist Party) প্রতিষ্ঠিত হয়।
নেতৃত্ব: জয়প্রকাশ নারায়ণ, আচার্য নরেন্দ্র দেব, রামমনোহর লোহিয়া, মিনু মাসানি প্রমুখ ছিলেন এই দলের প্রতিষ্ঠাতা।
প্রতিষ্ঠার কারণ ও উদ্দেশ্য:
কংগ্রেসের রক্ষণশীলতার বিরোধিতা: গান্ধীজির আইন অমান্য আন্দোলন প্রত্যাহারের ফলে অনেক তরুণ নেতা হতাশ হন। তাঁরা কংগ্রেসের রক্ষণশীল ও আপসকামী নীতির বিরোধিতা করতে দল গঠন করেন।
শ্রমিক-কৃষকদের স্বার্থরক্ষা: জাতীয় কংগ্রেস মূলত পুঁজিপতি ও জমিদারদের স্বার্থ দেখছিল বলে তাঁরা মনে করতেন। তাই কৃষক ও শ্রমিকদের সংগঠিত করে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির জন্যই এই দল প্রতিষ্ঠিত হয়।
উপসংহার: কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল স্বাধীনতা সংগ্রামের পাশাপাশি ভারতের শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলনে এক নতুন গতি সঞ্চার করেছিল এবং সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রসার ঘটিয়েছিল।

উপবিভাগ: ঘ.৪

৪.৭ সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স দলের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
ভূমিকা: ভারতের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে হেমচন্দ্র ঘোষ প্রতিষ্ঠিত ‘বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স’ (BV) বা ‘বি. ভি.’ দলের ভূমিকা অত্যন্ত গৌরবময়। ১৯২৮ সালে এটি মূলত একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও পরে তা একটি শক্তিশালী গুপ্ত বিপ্লবী দলে পরিণত হয়।
অলিন্দ যুদ্ধ: ১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর এই দলের তিন নির্ভীক সদস্য— বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত এবং দীনেশ গুপ্ত রাইটার্স বিল্ডিং-এ প্রবেশ করে কারা-ইন্সপেক্টর জেনারেল এন. এস. সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করেন, যা ‘অলিন্দ যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।
অত্যাচারী ব্রিটিশদের হত্যা: বিনয় বসু ইতিপূর্বে ঢাকায় লোম্যানকে হত্যা করেছিলেন। পরবর্তীতে বি. ভি.-র সদস্যরাই মেদিনীপুরের অত্যাচারী জেলাশাসক পেডি, ডগলাস এবং বার্জকে পর পর হত্যা করেন।
উপসংহার: বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স দলের সদস্যদের আত্মত্যাগ, শৌর্য ও বীরত্ব ব্রিটিশদের মনে প্রবল আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল এবং পরাধীন ভারতের তরুণদের সশস্ত্র বিপ্লবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

৪.৮ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
ভূমিকা: ১৯০৫ সালের লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাতে বাংলার ছাত্রসমাজ এক উজ্জ্বল ও গৌরবময় ভূমিকা পালন করেছিল।
বিদেশি দ্রব্য বর্জন: ছাত্ররা প্রথম বিলাতি স্কুল-কলেজ, পোশাক ও দ্রব্য বর্জনের (বয়কট) ডাক দেয় এবং হাটে-বাজারে বিদেশি বস্ত্র পোড়ানোর কাজে ও পিকেটিং-এ অগ্রণী ভূমিকা নেয়।
স্বদেশি প্রচার: তারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে স্বদেশি গান গাওয়া, রাখি বন্ধন ও অরন্ধন পালন করে সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায়।
অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি গঠন: কার্লাইল সার্কুলার ও পেডলার সার্কুলারের মতো সরকারি ছাত্র-দমন নীতির বিরুদ্ধে শচীন্দ্রপ্রসাদ বসুর নেতৃত্বে ছাত্ররা ‘অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি’ গঠন করে আন্দোলন চালিয়ে যায় এবং জাতীয় শিক্ষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।
উপসংহার: ছাত্রদের এই অদম্য উৎসাহ, স্বার্থত্যাগ এবং নির্ভীকতা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনকে একটি প্রবল ও সফল গণ-আন্দোলনে পরিণত করেছিল।


বিভাগ ‘ঙ’ — দীর্ঘ উত্তরধর্মী (৮ × ১ = ৮)

(সবকটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হল)

৫.১ বিদ্যাসাগরের নেতৃত্বে বিধবা বিবাহ আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। বিদ্যাসাগর কতটা সাফল্য অর্জন করেছিলেন?

ভূমিকা:
ঊনবিংশ শতকের বাংলার সমাজ সংস্কার আন্দোলনের ইতিহাসে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নেতৃত্বে বিধবা বিবাহ প্রবর্তনের আন্দোলন একটি যুগান্তকারী ঘটনা। রাজা রামমোহন রায় যেমন সতীদাহ প্রথা রদ করেছিলেন, বিদ্যাসাগর তেমনি অবহেলিত বিধবাদের পুনর্বাসনের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছিলেন।

প্রেক্ষাপট ও শাস্ত্রীয় প্রমাণ:
সেসময় বাল্যবিবাহ এবং বহুবিবাহের কারণে সমাজে অনেক অল্পবয়সী বিধবার অস্তিত্ব ছিল, যাদের জীবন ছিল চরম লাঞ্ছনা ও অমানবিক কষ্টের। এই অমানবিক প্রথার অবসান ঘটাতে বিদ্যাসাগর শাস্ত্র মন্থন শুরু করেন। তিনি ‘পরাশর সংহিতা’ থেকে উদ্ধৃত করে প্রমাণ করেন যে, হিন্দুশাস্ত্রে বিধবা বিবাহের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে (“নষ্টে মৃতে প্রব্রজিতে… পতিরণ্যো বিধীয়তে”)।

আন্দোলনের প্রসার ও জনমত গঠন:
১৮৫৫ সালে তিনি ‘বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব’ নামক পুস্তিকা রচনা করে সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তিনি তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রবন্ধ লেখেন এবং প্রায় ১০০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির (যেমন- মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অক্ষয়কুমার দত্ত) স্বাক্ষর সম্বলিত একটি আবেদনপত্র ব্রিটিশ সরকারের কাছে পাঠান। অন্যদিকে রাধাকান্ত দেবের নেতৃত্বে রক্ষণশীল সমাজ এর তীব্র বিরোধিতা করে।

বিদ্যাসাগরের সাফল্য:
আইন পাশ: তাঁর অকাট্য যুক্তি ও নিরলস প্রচেষ্টায় লর্ড ডালহৌসির উদ্যোগে এবং লর্ড ক্যানিং-এর সময়কালে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই ‘হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন’ (১৫ নং রেগুলেশন) পাশ হয়। এটি তাঁর আন্দোলনের সবচেয়ে বড় আইনি সাফল্য।
প্রথম বিধবা বিবাহ: আইন পাশের পর ১৮৫৬ সালের ৭ ডিসেম্বর তাঁর উদ্যোগেই এবং নিজস্ব ব্যয়ে প্রথম বিধবা বিবাহ সম্পন্ন হয় (সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্নের সাথে কালিমতী দেবীর)।
নিজ জীবনে প্রয়োগ: সমাজের ভ্রুকুটিকে তোয়াক্কা না করে নিজের একমাত্র পুত্র নারায়ণচন্দ্রের সাথে ভবসুন্দরী নামক একজন বিধবার বিবাহ দিয়ে তিনি তাঁর আদর্শের চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

উপসংহার:
তৎকালীন চরম রক্ষণশীল সমাজের প্রবল বাধার কারণে এই আন্দোলন হয়তো ঘরে ঘরে ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়নি, কিন্তু নারীমুক্তির ইতিহাসে এটি একটি বড় পদক্ষেপ ছিল। একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজকে আইনি ও নৈতিক দিক দিয়ে আধুনিকতার পথে চালিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যাসাগরের এই উদ্যোগ চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

৫.২ ‘সভা-সমিতির যুগ’ বলতে কী বোঝায়? উনিশ শতকের বাংলায় রাজনৈতিক চেতনার বিকাশে হিন্দুমেলার কীরূপ অবদান ছিল?

(অংশ ১) সভা-সমিতির যুগ:
উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ, বিশেষ করে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর থেকে ১৮৮৫ সালে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার আগে পর্যন্ত সময়কালকে ঐতিহাসিক ড. অনিল শীল ‘সভা-সমিতির যুগ’ (Age of Associations) বলে অভিহিত করেছেন। এই সময়ে ভারতে, বিশেষত বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্যোগে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা, ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি, ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন, ভারতসভা প্রভৃতি অসংখ্য আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

(অংশ ২) হিন্দুমেলার অবদান:
ভূমিকা: ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে নবগোপাল মিত্র, রাজনারায়ণ বসু ও দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে কলকাতায় ‘চৈত্র মেলা’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরে ‘হিন্দুমেলা’ নামে পরিচিত হয়। উনিশ শতকের বাংলায় জাতীয় চেতনা বিকাশে এর অবদান ছিল অসামান্য।
স্বদেশপ্রেম জাগরণ: হিন্দুমেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু ধর্ম ও ভারতীয় ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন ঘটিয়ে শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে স্বাদেশিকতা ও আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করা।
স্বদেশি শিল্পের প্রসার: এই মেলায় দেশীয় কুটির শিল্প, হস্তশিল্প ও কৃষিজাত পণ্য প্রদর্শিত হত। এর মাধ্যমে বিদেশি পণ্য বর্জন এবং স্বদেশি শিল্পে উৎসাহ দেওয়া হত।
শারীরিক চর্চা: যুবকদের শরীরচর্চা, লাঠিখেলা ও ব্যায়ামের মাধ্যমে আত্মরক্ষার পাঠ দেওয়া হত, যাতে তারা ব্রিটিশদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে।
জাতীয় সাহিত্যের বিকাশ: মেলায় দেশাত্মবোধক গান, কবিতা ও প্রবন্ধ পাঠ করা হত। দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মলিন মুখচন্দ্রমা ভারত তোমারি’ বা সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মিলে সব ভারত সন্তান’ গানগুলি এখান থেকেই জনপ্রিয় হয়।
উপসংহার: হিন্দুমেলা কোনো প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংগঠন না হলেও, এটি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজে সর্বপ্রথম স্বনির্ভরতা, স্বদেশপ্রেম এবং সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করেছিল।

৫.৩ বাংলায় নমঃশূদ্র আন্দোলনের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

ভূমিকা:
ঔপনিবেশিক বাংলায় সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে দলিত বা নমঃশূদ্র সম্প্রদায় যে সুসংগঠিত আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, তা বাংলার ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। মূলত পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর, ঢাকা ও বরিশাল জেলায় এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

পটভূমি:
নমঃশূদ্ররা মূলত কৃষক, মৎস্যজীবী ও কারিগর শ্রেণির মানুষ ছিলেন। সমাজে তাঁরা উচ্চবর্ণের হিন্দুদের দ্বারা অবহেলিত ও শোষিত হতেন এবং তাঁদের অস্পৃশ্য বলে গণ্য করা হত। এই দীর্ঘকালীন সামাজিক বঞ্চনা থেকেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

মতাদর্শ ও নেতৃত্ব:
শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ‘মতুয়া ধর্ম’ প্রবর্তন করে নমঃশূদ্রদের মধ্যে প্রথম সামাজিক ঐক্যের বাণী প্রচার করেন। তিনি জাতপাত ও ভেদাভেদের তীব্র বিরোধিতা করেন। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে নমঃশূদ্র আন্দোলন একটি শক্তিশালী সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হয়।

আন্দোলনের প্রধান দিকগুলি:
১. শিক্ষাবিস্তার: গুরুচাঁদ ঠাকুর মনে করতেন শিক্ষাই নমঃশূদ্রদের মুক্তির একমাত্র পথ। তিনি ব্রিটিশ সরকার ও মিশনারিদের সহায়তায় গ্রামে গ্রামে পাঠশালা ও স্কুল গড়ে তোলেন।
২. সামাজিক সম্মান আদায়: তাঁরা উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মতো শ্রাদ্ধশান্তি ও অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার দাবি করেন এবং নিজেদের চণ্ডাল নামের পরিবর্তে ‘নমঃশূদ্র’ হিসেবে সরকারি স্বীকৃতির দাবি জানান (যা ১৯১১ সালে মান্যতা পায়)।
৩. রাজনৈতিক অধিকার: নমঃশূদ্ররা ক্রমশ রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে ওঠে। তাঁরা বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) আন্দোলনকে বয়কট করেন, কারণ তাঁরা মনে করতেন উচ্চবর্ণের জমিদারদের স্বার্থেই এই আন্দোলন হচ্ছে। পরিবর্তে তাঁরা ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে সরকারি চাকরিতে ও আইনসভায় নিজেদের সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষণ দাবি করেন।

উপসংহার:
বাংলার নমঃশূদ্র আন্দোলন ছিল মূলত সম্মান, শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের এক নীরব সামাজিক বিপ্লব। গুরুচাঁদ ঠাকুর, প্রমথরঞ্জন ঠাকুর, মুকুন্দবিহারী মল্লিক প্রমুখ নেতার নিরলস প্রচেষ্টায় নমঃশূদ্ররা নিজেদের সামাজিক অবস্থান উন্নত করে সমাজের মূলস্রোতে উঠে আসতে সক্ষম হয়েছিল।


বিভাগ ‘চ’ — কেবলমাত্র বহিরাগত পরীক্ষার্থীদের জন্য

৬.১ একটি সম্পূর্ণ বাক্যে উত্তর দাও (১ × ৪ = ৪)

৬.১.১ ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’র সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তর: ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’র সম্পাদক ছিলেন কাঙাল হরিনাথ (হরিনাথ মজুমদার)।

৬.১.২ কোন বৎসর সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

৬.১.৩ ‘হুল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সাঁওতালি ভাষায় ‘হুল’ শব্দের অর্থ হল বিদ্রোহ।

৬.১.৪ ‘বসুবিজ্ঞান মন্দির’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ‘বসুবিজ্ঞান মন্দির’ প্রতিষ্ঠা করেন।

৬.১.৫ কত খ্রিস্টাব্দে শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। (১৮৬৩ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতন আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন)।

৬.১.৬ দীপালি সংঘ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: লীলা নাগ (রায়) দীপালি সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।

৬.২ দু’টি অথবা তিনটি বাক্যে উত্তর দাও (যে কোনো তিনটি) (২ × ৩ = ৬)

৬.২.১ ‘মেকলে মিনিট’ কী?
উত্তর: ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে পাবলিক ইনস্ট্রাকশন কমিটির সভাপতি লর্ড টমাস ব্যাবিংটন মেকলে ভারতে প্রাচ্য শিক্ষার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষায় পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তনের সপক্ষে যে প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করেন, তা মেকলে মিনিট নামে পরিচিত।

৬.২.২ তিতুমির স্মরণীয় কেন?
উত্তর: তিতুমির বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বারাসাত বিদ্রোহের মাধ্যমে নারকেলবেড়িয়া গ্রামে বাঁশের কেল্লা তৈরি করে ব্রিটিশ বাহিনী, নীলকর ও জমিদারদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে শহীদ হন।

৬.২.৩ মোপলা বিদ্রোহ কেন হয়েছিল?
উত্তর: ১৯২১ সালে কেরলের মালাবার উপকূলে মুসলিম কৃষকরা (মোপলা) হিন্দু জমিদার (জেনমি) ও ব্রিটিশদের দ্বারা অতিরিক্ত খাজনা বৃদ্ধি, বেআইনি কর এবং উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মোপলা বিদ্রোহ করেছিল।

৬.২.৪ ‘ভারত সভা’ প্রতিষ্ঠার যে কোনো দুটি উদ্দেশ্য লেখো।
উত্তর: ১) দেশে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ জনমত গঠন করা এবং ২) হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য ও স্বার্থবোধ জাগ্রত করে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা।

৬.২.৫ কী উদ্দেশ্যে ‘শ্রীনিকেতন’ গড়ে ওঠে?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পল্লী উন্নয়ন, কৃষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কুটির শিল্পের প্রসার এবং সমবায় প্রথার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্যে ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে শান্তিনিকেতনের অদূরে ‘শ্রীনিকেতন’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top