মাধ্যমিক ইতিহাস সমাধান – ২০১৯ (Madhyamik 2019 History Question Paper Solved)
তোমরা যারা টেস্ট ও ফাইনাল পরীক্ষার জন্য ভীষণ মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছ, তাদের জন্য বিগত বছরের প্রশ্ন বা Previous Year Questions (PYQ) ঘাঁটাঘাঁটি করাটা কতটা জরুরি তা নিশ্চয়ই জানো। সেই কথা মাথায় রেখেই আমাদের আজকের এই আয়োজন—‘মাধ্যমিক ২০১৯ ইতিহাস প্রশ্নপত্র ও তার নিখুঁত সমাধান’ (Madhyamik 2019 History Question Paper Solution)।
তবে, আমাদের দেওয়া এই উত্তরপত্রটি স্ক্রোল করে দেখার আগে তোমাদের কাছে একটি ছোট্ট অনুরোধ। তোমরা আগে সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্রটি নিজে থেকে খাতায় সমাধান করার চেষ্টা করো। নিজের পরীক্ষা নিজে নেওয়ার পর আমাদের উত্তরমালার সাথে তোমার লেখাগুলো মিলিয়ে দেখো। এতে তোমরা খুব সহজেই বুঝতে পারবে কোন কোন অধ্যায়ে তোমাদের এখনও একটু জোর দিতে হবে। তো আর দেরি কেন? খাতা-পেন নিয়ে এখনই বসে পড়ো!
বিভাগ ‘ক’
১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:
১.১ মোহনবাগান ক্লাব আই.এফ.এ. শিল্ড জয় করেছিল-
(ক) ১৮৯০ খ্রিঃ
(খ) ১৯০৫ খ্রিঃ
(গ) ১৯১১ খ্রিঃ
(ঘ) ১৯১৭ খ্রিঃ
উত্তর: (গ) ১৯১১ খ্রিঃ
১.২ দাদাসাহেব ফাল্কে যুক্ত ছিলেন-
(ক) চলচ্চিত্রের সঙ্গে
(খ) ক্রীড়া জগতের সঙ্গে
(গ) স্থানীয় ইতিহাস চর্চার সঙ্গে
(ঘ) পরিবেশের ইতিহাস চর্চার সঙ্গে
উত্তর: (ক) চলচ্চিত্রের সঙ্গে
১.৩ ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ প্রকাশিত হত-
(ক) যশোর থেকে
(খ) রানাঘাট থেকে
(গ) কুষ্টিয়া থেকে
(ঘ) বারাসাত থেকে
উত্তর: (গ) কুষ্টিয়া থেকে
১.৪ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বি. এ. পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়-
(ক) ১৮৫৭ খ্রিঃ
(খ) ১৮৫৮ খ্রিঃ
(গ) ১৮৫৯ খ্রিঃ
(ঘ) ১৮৬০ খ্রিঃ
উত্তর: (খ) ১৮৫৮ খ্রিঃ
১.৫ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন-
(ক) ড. এম. জে. ব্রামলি
(খ) ড: এইচ. এইচ. গুডিভ
(গ) ড: এন. ওয়ালিশ
(ঘ) ড: জে. গ্রান্ট
উত্তর: (ক) ড. এম. জে. ব্রামলি
১.৬ তিতুমিরের প্রকৃত নাম ছিল-
(ক) চিরাগ আলি
(খ) হায়দর আলি
(গ) মির নিসার আলি
(ঘ) তোরাপ আলি
উত্তর: (গ) মির নিসার আলি
১.৭ সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের অন্যতম নেতা ছিলেন-
(ক) রানী কর্ণাবতী
(খ) রানী শিরোমণি
(গ) দেবী চৌধুরানী
(ঘ) রানী দুর্গাবতী
উত্তর: (গ) দেবী চৌধুরানী
১.৮ “বন্দে মাতরম্” সংগীতটি রচিত হয়-
(ক) ১৮৭০ খ্রিঃ
(খ) ১৮৭২ খ্রিঃ
(গ) ১৮৭৫ খ্রিঃ
(ঘ) ১৮৭৬ খ্রিঃ
উত্তর: (গ) ১৮৭৫ খ্রিঃ
১.৯ ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থটি রচনা করেন-
(ক) অক্ষয়কুমার দত্ত
(খ) রাজনারায়ণ বসু
(গ) স্বামী বিবেকানন্দ
(ঘ) রমেশচন্দ্র মজুমদার
উত্তর: (গ) স্বামী বিবেকানন্দ
১.১০ গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন-
(ক) সংগীতশিল্পী
(খ) নাট্যকার
(গ) কবি
(ঘ) ব্যঙ্গচিত্র শিল্পী
উত্তর: (ঘ) ব্যঙ্গচিত্র শিল্পী
১.১১ ‘বর্ণপরিচয়’ প্রকাশিত হয়েছিল-
(ক) ১৮৪৫ খ্রিঃ
(খ) ১৮৫০ খ্রিঃ
(গ) ১৮৫৫ খ্রিঃ
(ঘ) ১৮৬০ খ্রিঃ
উত্তর: (গ) ১৮৫৫ খ্রিঃ
১.১২ বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়-
(ক) ১৯০৫ খ্রিঃ
(খ) ১৯০৬ খ্রিঃ
(গ) ১৯১১ খ্রিঃ
(ঘ) ১৯১২ খ্রিঃ
উত্তর: (খ) ১৯০৬ খ্রিঃ
১.১৩ সর্বভারতীয় কিষান সভার প্রথম সভাপতি ছিলেন-
(ক) এন. জি. রঙ্গ
(খ) স্বামী সহজানন্দ
(গ) বাবা রামচন্দ্র
(ঘ) লালা লাজপত বসু
উত্তর: (খ) স্বামী সহজানন্দ
১.১৪ কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল-
(ক) কলকাতায়
(খ) দিল্লিতে
(গ) বোম্বাইতে
(ঘ) মাদ্রাজে
উত্তর: (গ) বোম্বাইতে
১.১৫ ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি’ যুক্ত ছিল-
(ক) রাওলাট সত্যাগ্রহে
(খ) অসহযোগ আন্দোলনে
(গ) বারদৌলি সত্যাগ্রহে
(ঘ) সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলনে
উত্তর: (ঘ) সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলনে
১.১৬ বাংলার গভর্নর স্ট্যানলী জ্যাকসনকে হত্যা করার চেষ্টা করেন—
(ক) বীণা দাস
(খ) কল্পনা দত্ত
(গ) প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার
(ঘ) সুনীতি চৌধুরী
উত্তর: (ক) বীণা দাস
১.১৭ অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটির সম্পাদক ছিলেন-
(ক) শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু
(খ) কৃষ্ণকুমার মিত্র
(গ) চিত্তরঞ্জন দাস
(ঘ) আনন্দমোহন বসু
উত্তর: (ক) শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু
১.১৮ ভাইকম সত্যাগ্রহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল-
(ক) মালাবারে
(খ) মাদ্রাজে
(গ) মহারাষ্ট্রে
(ঘ) গোদাবরী উপত্যকায়
উত্তর: (ক) মালাবারে
১.১৯ যে দেশীয় রাজ্যটি গণভোটের মাধ্যমে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়-
(ক) কাশ্মীর
(খ) হায়দ্রাবাদ
(গ) জুনাগড়
(ঘ) জয়পুর
উত্তর: (গ) জুনাগড়
১.২০ ভাষাভিত্তিক গুজরাট রাজ্যটি গঠিত হয়-
(ক) ১৯৫৩ খ্রিঃ
(খ) ১৯৫৬ খ্রিঃ
(গ) ১৯৬০ খ্রিঃ
(ঘ) ১৯৬৫ খ্রিঃ
উত্তর: (গ) ১৯৬০ খ্রিঃ
বিভাগ ‘খ’
২। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
উপবিভাগ: ২.১
একটি বাক্যে উত্তর দাও:
(২.১.১) ‘গোরা’ উপন্যাসটি কে রচনা করেন?
উত্তর: ‘গোরা’ উপন্যাসটি রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
(২.১.২) বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সচিত্র গ্রন্থের নাম লেখো।
উত্তর: বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সচিত্র গ্রন্থের নাম হলো ‘অন্নদামঙ্গল’ (গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য প্রকাশিত)।
(২.১.৩) কোন্ বছর শ্রীরামপুর মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।
(২.১.৪) উষা মেহতা কোন্ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
উত্তর: উষা মেহতা ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’ বা ‘আগস্ট আন্দোলন’-এর (গোপন রেডিও স্টেশন পরিচালনার) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
উপবিভাগ: ২.২
ঠিক বা ভুল নির্ণয় করো:
(২.২.১) ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ।
উত্তর: ঠিক।
(২.২.২) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রথম মহিলা এম. এ. ছিলেন কাদম্বিনী বসু (গাঙ্গুলি)।
উত্তর: ভুল। (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা এম.এ. ছিলেন চন্দ্রমুখী বসু)।
(২.২.৩) বাংলায় সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী ছিলেন বাসন্তী দেবী।
উত্তর: ভুল। (বাসন্তী দেবী মূলতঃ অহিংস অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন)।
(২.২.৪) দীপালি সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন কল্পনা দত্ত।
উত্তর: ভুল। (দীপালি সংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন লীলা নাগ বা লীলা রায়)।
উপবিভাগ: ২.৩
‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও:
| ‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ (সঠিক মেলানো) |
|---|---|
| (২.৩.১) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | (৪) বঙ্গদর্শন |
| (২.৩.২) নবগোপাল মিত্র | (৩) হিন্দু মেলা |
| (২.৩.৩) বীরেন্দ্রনাথ শাসমল | (২) কৃষক আন্দোলন |
| (২.৩.৪) ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন | (১) হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় |
উপবিভাগ: ২.৪
প্রদত্ত ভারতবর্ষের রেখামানচিত্রে নিম্নলিখিত স্থানগুলি চিহ্নিত ও নামাঙ্কিত কর:
(২.৪.১) সাঁওতাল বিদ্রোহের (১৮৫৫) এলাকা।
উত্তর: মানচিত্রে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাজমহল পাহাড় ও ভাগলপুর সংলগ্ন ‘দামিন-ই-কোহ’ অঞ্চলটিকে চিহ্নিত করতে হবে।
(২.৪.২) বারাসাত বিদ্রোহের এলাকা।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমা অঞ্চলটিকে চিহ্নিত করতে হবে।
(২.৪.৩) নীল বিদ্রোহের অন্যতম কেন্দ্র: যশোর।
উত্তর: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত বর্তমান বাংলাদেশের যশোর জেলা সংলগ্ন অঞ্চলটিকে চিহ্নিত করতে হবে।
(২.৪.৪) দেশীয় রাজ্য হায়দ্রাবাদ।
উত্তর: দক্ষিণ ভারতের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত বিশাল দেশীয় রাজ্য হায়দ্রাবাদকে চিহ্নিত করতে হবে।
অথবা (কেবলমাত্র দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের জন্য)
শূন্যস্থান পূরণ কর:
(২.৪.১) সরলা দেবী চৌধুরানীর আত্মজীবনী গ্রন্থের নাম _____।
উত্তর: সরলা দেবী চৌধুরানীর আত্মজীবনী গ্রন্থের নাম জীবনের ঝরাপাতা।
(২.৪.২) কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় _____ খ্রিষ্টাব্দে।
উত্তর: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দে।
(২.৪.৩) সুই মুন্ডা ছিলেন _____ বিদ্রোহের অন্যতম নেতা।
উত্তর: সুই মুন্ডা ছিলেন কোল বিদ্রোহের অন্যতম নেতা।
(২.৪.৪) ভারত সভা প্রতিষ্ঠিত হয় _____ খ্রিষ্টাব্দে।
উত্তর: ভারত সভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে।
উপবিভাগ: ২.৫
নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলির সঙ্গে সঠিক বাক্যটি নির্বাচন কর:
(২.৫.১) বিবৃতি: রামমোহন রায় লর্ড আমহার্স্টকে চিঠি লিখেছিলেন (১৮২৩ খ্রিঃ)।
ব্যাখ্যা ১: সতীদাহ প্রথা বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে।
ব্যাখ্যা ২: ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের আবেদন জানিয়ে।
ব্যাখ্যা ৩: ভারতে সংস্কৃত শিক্ষা বিস্তারের আবেদন জানিয়ে।
উত্তর: ব্যাখ্যা ২: ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের আবেদন জানিয়ে।
(২.৫.২) বিবৃতি: স্বামী বিবেকানন্দ ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থটি রচনা করেন।
ব্যাখ্যা ১: তাঁর উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক ভারতের ইতিহাস প্রণয়ন করা।
ব্যাখ্যা ২: তাঁর উদ্দেশ্য ছিল নব্য হিন্দুধর্ম প্রচার করা।
ব্যাখ্যা ৩: তাঁর উদ্দেশ্য ছিল স্বাদেশিকতা প্রচার করা।
উত্তর: ব্যাখ্যা ৩: তাঁর উদ্দেশ্য ছিল স্বাদেশিকতা প্রচার করা।
(২.৫.৩) বিবৃতি: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে শ্রমিক-কৃষকদের জন্য কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি।
ব্যাখ্যা ১: শ্রমিক-কৃষকরা এই আন্দোলনের বিরোধী ছিল।
ব্যাখ্যা ২: ব্রিটিশ সরকার শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
ব্যাখ্যা ৩: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন ছিল মূলতঃ মধ্যবিত্ত শ্রেণির আন্দোলন।
উত্তর: ব্যাখ্যা ৩: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন ছিল মূলতঃ মধ্যবিত্ত শ্রেণির আন্দোলন।
(২.৫.৪) বিবৃতি: গান্ধিজি জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন সমর্থন করেননি।
ব্যাখ্যা ১: গান্ধিজি ছিলেন জমিদার শ্রেণির প্রতিনিধি।
ব্যাখ্যা ২: গান্ধিজি হিংসাত্মক আন্দোলনের বিরোধী ছিলেন।
ব্যাখ্যা ৩: গান্ধিজি শ্রেণিসংগ্রামের পরিবর্তে শ্রেণিসমন্বয়ে বিশ্বাসী ছিলেন।
উত্তর: ব্যাখ্যা ৩: গান্ধিজি শ্রেণিসংগ্রামের পরিবর্তে শ্রেণিসমন্বয়ে বিশ্বাসী ছিলেন।
বিভাগ ‘গ’
৩। দু’টি অথবা তিনটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
৩.১ আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চা গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর: জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরের ইতিহাসে অনেক সময় স্থানীয় বা প্রান্তিক মানুষের কথা, তাদের ভাষা, সংস্কৃতি এবং স্থানীয় আন্দোলনগুলি অবহেলিত থেকে যায়। আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চার মাধ্যমে সেইসব অজানা স্থানীয় তথ্যগুলো সামনে আসে, যা সামগ্রিক জাতীয় ইতিহাসকে আরও পূর্ণাঙ্গ ও ত্রুটিমুক্ত করতে সাহায্য করে।
৩.২ ‘সরকারি নথিপত্র’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সরকারি নথিপত্র বলতে বোঝায় ব্রিটিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পুলিশ রিপোর্ট, গোয়েন্দা বিভাগের রিপোর্ট, সরকারি আধিকারিকদের পারস্পরিক চিঠিপত্র, এবং সরকারি নির্দেশিকা বা গেজেটসমূহ, যা থেকে সমকালীন ব্রিটিশ নীতি এবং ভারতীয়দের রাজনৈতিক আন্দোলনের বহু গোপন তথ্য জানা যায়।
৩.৩ সংবাদপত্র এবং সাময়িক-পত্রের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: সংবাদপত্র সাধারণত প্রতিদিন প্রকাশিত হয় এবং এতে দৈনন্দিন দেশ-বিদেশের খবর, রাজনীতি বা তৎকালীন ঘটনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে, সাময়িকপত্র প্রতিদিন প্রকাশিত না হয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর (যেমন- সাপ্তাহিক, মাসিক) প্রকাশিত হয় এবং এতে খবরের চেয়ে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চিন্তামূলক প্রবন্ধ বেশি থাকে।
৩.৪ মধুসূদন গুপ্ত কে ছিলেন?
উত্তর: মধুসূদন গুপ্ত ছিলেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক এবং শিক্ষক। সামাজিক নানা কুসংস্কার ও বাধা উপেক্ষা করে ১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই জানুয়ারি তিনি চারজন ছাত্রকে সাথে নিয়ে প্রথম মানবদেহ ব্যবচ্ছেদ (Dissection) করে ভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
৩.৫ সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ ব্যর্থ হল কেন?
উত্তর: সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ ছিল বিদ্রোহীদের মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ বা লক্ষ্যের অভাব। তাছাড়া, ভবানী পাঠক ও মজনু শাহের মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাব, বিদ্রোহীদের মধ্যে যোগাযোগের অভাব এবং ব্রিটিশ বাহিনীর আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের কাছে তাদের সনাতন অস্ত্রের হার মানা এই বিদ্রোহের পতন ডেকে আনে।
৩.৬ নীল বিদ্রোহে খ্রিষ্টান মিশনারীদের ভূমিকা কিরূপ ছিল?
উত্তর: নীল বিদ্রোহে রেভারেন্ড জেমস লঙ-এর মতো খ্রিষ্টান মিশনারিরা নীলকর সাহেবদের অমানবিক অত্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। তাঁরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে নীলচাষিদের দুর্দশার কথা খবরের কাগজে প্রকাশ করেন এবং সরকার যাতে নীল কমিশন গঠন করে, তার জন্য জনমত তৈরি করতে কৃষকদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন।
৩.৭ জমিদার সভা ও ভারত সভার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখ।
উত্তর:
প্রথমত, জমিদার সভা (১৮৩৮ খ্রিঃ) মূলত বাংলার উচ্চবিত্ত জমিদার শ্রেণির স্বার্থরক্ষার জন্য তৈরি হয়েছিল, অন্যদিকে ভারত সভা (১৮৭৬ খ্রিঃ) ছিল মধ্যবিত্ত এবং সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক মঞ্চ।
দ্বিতীয়ত, জমিদার সভার কর্মসূচি মূলত বাংলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু ভারত সভা সর্বভারতীয় স্তরে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে তুলেছিল।
৩.৮ উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদের উন্মেষে ‘ভারতমাতা’ চিত্রটির কিরূপ ভূমিকা ছিল?
উত্তর: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর অঙ্কিত ‘ভারতমাতা’ চিত্রটি বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের সময় ভারতবাসীর কাছে এক নতুন দেশপ্রেমের প্রতীকে পরিণত হয়। এই চিত্রে ভারতমাতাকে কোনো অস্ত্র হাতে নয়, বরং অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও দীক্ষা প্রদানকারী এক শান্ত, আধ্যাত্মিক মাতৃরূপে কল্পনা করা হয়েছিল, যা দেশবাসীর মনে গভীর জাতীয়তাবাদী আবেগের সঞ্চার করে।
৩.৯ চার্লস উইলকিনস্ কে ছিলেন?
উত্তর: চার্লস উইলকিনস্ ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন ইংরেজ সিভিলিয়ান, যাকে ‘বাংলার গুটেনবার্গ’ বলা হয়। তিনি প্রথমবার ছেনি দিয়ে কেটে নিখুঁত বাংলা মুদ্রাক্ষর বা টাইপ তৈরি করেছিলেন এবং নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেডের ‘এ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ (১৭৭৮ খ্রিঃ) বইটি ছাপিয়ে বাংলা মুদ্রণ শিল্পের সূচনা করেছিলেন।
৩.১০ বাংলায় লাইনোটাইপ প্রবর্তনের গুরুত্ব কী?
উত্তর: ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে সুরেশচন্দ্র মজুমদার বাংলা মুদ্রণ শিল্পে লাইনোটাইপ বা একসাথে এক লাইন অক্ষর ঢালাই করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এর ফলে বাংলা বই ও সংবাদপত্র ছাপার কাজ আগের চেয়ে অনেক দ্রুত, নির্ভুল এবং সাশ্রয়ী হয়, যা বাংলা প্রকাশনা ও শিক্ষা প্রসারে বিরাট অবদান রাখে।
৩.১১ কৃষক আন্দোলনে বাবা রামচন্দ্রের কীরূপ ভূমিকা ছিল?
উত্তর: বাবা রামচন্দ্র ছিলেন উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা অঞ্চলের এক প্রভাবশালী কৃষক নেতা। তিনি ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে কিষাণ সভা গঠন করে যুক্তপ্রদেশের কৃষকদের বেগার প্রথা, অতিরিক্ত খাজনা এবং জমিদারদের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং অহিংস পথে এক শক্তিশালী কৃষক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।
৩.১২ মাদারী পাশি কে ছিলেন?
উত্তর: মাদারি পাশি ছিলেন ১৯২১-২২ খ্রিষ্টাব্দে উত্তরপ্রদেশের যুক্তপ্রদেশে সংগঠিত ‘একা’ (Eka) বা একতা আন্দোলনের প্রধান নেতা। তিনি উচ্চবর্ণের জমিদার ও ব্রিটিশ সরকারের অতিরিক্ত কর আদায়ের বিরুদ্ধে হরদোই, সীতাপুর প্রভৃতি জেলার দলিত ও নিম্নবিত্ত কৃষকদের সংগঠিত করে একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলেন।
৩.১৩ মাতঙ্গিনী হাজরা স্মরণীয় কেন?
উত্তর: মাতঙ্গিনী হাজরা ছিলেন মেদিনীপুরের এক বীরাঙ্গনা স্বাধীনতা সংগ্রামী, যাঁকে ‘গান্ধিবুড়ি’ বলা হতো। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় (১৯৪২ খ্রিঃ) তমলুক থানা দখল করতে গিয়ে ৭৩ বছর বয়সে তিনি পুলিশের গুলিতে প্রাণ বিসর্জন দেন, তবুও হাতের জাতীয় পতাকা মাটিতে পড়তে দেননি। তাঁর এই আত্মত্যাগ তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
৩.১৪ দলিত কাদের বলা হয়?
উত্তর: দলিত বলতে হিন্দু সমাজের সেইসব পিছিয়ে পড়া, নিম্নবর্ণের এবং অস্পৃশ্য মানুষদের বোঝায়, যারা যুগ যুগ ধরে উচ্চবর্ণের দ্বারা সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং শিক্ষাগত দিক থেকে চরম অবহেলা ও শোষণের শিকার হয়েছে। যেমন- মাহার, চামার, নমঃশূদ্র প্রভৃতি সম্প্রদায়।
৩.১৫ দার কমিশন (১৯৪৮) কেন গঠিত হয়েছিল?
উত্তর: ভারত স্বাধীন হওয়ার পর দক্ষিণ ভারতে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের জোরালো দাবি ওঠে। এই পরিস্থিতিতে ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠন ভারতের ঐক্যের পক্ষে কতটা যৌক্তিক বা নিরাপদ, তা যাচাই করার জন্যই এস. কে. দারের নেতৃত্বে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে ‘দার কমিশন’ বা ভাষাতাত্ত্বিক প্রদেশ কমিশন গঠিত হয়।
৩.১৬ পত্তি শ্রীরামালু কে ছিলেন?
উত্তর: পোট্টি শ্রীরামুলু ছিলেন একজন গান্ধিবাদী স্বাধীনতা সংগ্রামী। স্বাধীন ভারতে মাদ্রাজের তেলুগুভাষী মানুষের জন্য একটি পৃথক ‘অন্ধ্র রাজ্য’ গঠনের দাবিতে তিনি ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে ৫৮ দিন আমরণ অনশন করে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এই আত্মবলিদানের ফলেই ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের বিষয়টি ত্বরান্বিত হয়।
বিভাগ ‘ঘ’
৪। সাত বা আটটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
উপবিভাগ: ঘ.১
৪.১ ‘নীলদর্পণ’ নাটক থেকে উনিশ শতকের বাংলার সমাজের কীরূপ প্রতিফলন পাওয়া যায়?
উত্তর:
ভূমিকা: দীনবন্ধু মিত্র রচিত ‘নীলদর্পণ’ (১৮৬০ খ্রিঃ) নাটকটি উনিশ শতকের বাংলার সমাজ ব্যবস্থার এক জীবন্ত ও প্রামাণ্য দলিল। এই নাটকটিতে বাংলার কৃষকদের ওপর ব্রিটিশ নীলকর সাহেবদের অবর্ণনীয় অত্যাচারের নিখুঁত ছবি ফুটে উঠেছে।
বাংলার সমাজের প্রতিফলন:
* নীলকরদের নির্মম অত্যাচার: নাটকে দেখানো হয়েছে কীভাবে নীলকর সাহেবরা কৃষকদের জোরপূর্বক দাদন দিয়ে উর্বর জমিতে ধানের বদলে নীল চাষ করতে বাধ্য করত এবং অবাধ্য হলে তাদের কুঠিতে আটকে রেখে চাবুক মারত বা তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিত।
* কৃষকদের দুর্দশা ও প্রতিরোধ: তোরাপ, নবীনমাধব প্রভৃতি চরিত্রের মাধ্যমে বাংলার শোষিত কিন্তু প্রতিবাদী কৃষকদের চরিত্র চিত্রিত হয়েছে, যারা শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ হয়ে নীলকরদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল।
* নারী নির্যাতন: নীলকর সাহেবরা বাংলার নিরীহ নারীদের ওপর কীভাবে পাশবিক অত্যাচার চালাত, ক্ষেত্রমণির চরিত্রের মাধ্যমে নাট্যকার তা অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে তুলে ধরেছেন।
* মধ্যবিত্ত সমাজের উদাসীনতা: নাটকের কিছু অংশে দেশীয় জমিদার এবং এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মধ্যবিত্তদের উদাসীনতা ও স্বার্থপরতার ছবিও পরিস্ফুট হয়েছে, যারা ব্রিটিশদের তোষণ করে চলত।
উপসংহার: ‘নীলদর্পণ’ নিছক একটি নাটক ছিল না, এটি ছিল পরাধীন ভারতের প্রথম প্রতিবাদী সাহিত্য। এই নাটকটি সমকালীন শিক্ষিত সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল এবং নীল বিদ্রোহকে জাতীয় স্তরে পৌঁছে দিতে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছিল।
৪.২ উনিশ শতকে নারী শিক্ষা বিস্তারে ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন কী ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর:
ভূমিকা: উনিশ শতকে বাংলার সমাজ সংস্কার ও নারীশিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন (J. E. D. Bethune) একটি অবিস্মরণীয় নাম। তিনি ছিলেন গভর্নর জেনারেলের আইনসচিব এবং শিক্ষা পরিষদের সভাপতি।
নারী শিক্ষা বিস্তারে বেথুনের ভূমিকা:
* হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন: তাঁর সবচেয়ে বড় কীর্তি হলো ১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রামগোপাল ঘোষ ও মদনমোহন তর্কালঙ্কারের সহায়তায় কলকাতায় ‘হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়’ (Hindu Female School) প্রতিষ্ঠা করা। এটিই ভারতের প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, যা বর্তমানে বেথুন স্কুল নামে পরিচিত।
* রক্ষণশীলতার মোকাবিলা: তৎকালীন হিন্দু সমাজ মেয়েদের স্কুলে পাঠানোর ঘোর বিরোধী ছিল। বেথুন নিজে ঘোড়ার গাড়ি করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমাজের উচ্চবিত্ত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েদের স্কুলে আনার ব্যবস্থা করতেন।
* নিজস্ব অর্থ ব্যয়: তিনি নারীশিক্ষার প্রতি এতটাই অনুরক্ত ছিলেন যে, স্কুলের জমি কেনা, ভবন নির্মাণ এবং স্কুল পরিচালনার সমস্ত ব্যয়ভার তিনি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বহন করতেন।
* পাঠ্যপুস্তক রচনায় উৎসাহ: ছাত্রীদের পড়ার সুবিধার জন্য তিনি মদনমোহন তর্কালঙ্কারকে ‘শিশুশিক্ষা’ নামক সহজ পাঠ্যবই রচনা করতে উৎসাহিত করেছিলেন।
উপসংহার: ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনের এই অসামান্য উদ্যোগের ফলেই বাংলার নারীশিক্ষার দ্বার চিরতরে উন্মুক্ত হয়েছিল। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় থেকেই পরবর্তীতে কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় ও চন্দ্রমুখী বসুর মতো প্রথম প্রজন্মের নারী স্নাতকরা উঠে এসেছিলেন।
উপবিভাগ: ঘ. ২
৪.৩ হিন্দু মেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর:
ভূমিকা: উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাঙালির মনে জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং স্বদেশপ্রেম জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে নবগোপাল মিত্র, রাজনারায়ণ বসু ও দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে ১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ‘হিন্দু মেলা’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যার প্রাথমিক নাম ছিল ‘চৈত্র মেলা’।
প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যসমূহ:
* স্বদেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগরণ: হিন্দু মেলার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষিত যুবসমাজের মনে দেশপ্রেমের বীজ বপন করা। দেশাত্মবোধক গান, কবিতা এবং বক্তৃতার মাধ্যমে হিন্দু মেলা বাঙালির মনে পরাধীনতার গ্লানি মোচন করে এক গৌরবময় জাতীয় ঐক্যের স্বপ্ন বুনেছিল।
* দেশীয় শিল্পের প্রসার: এই মেলায় দেশীয় কারিগরদের তৈরি হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পের প্রদর্শনী হতো। এর উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি দ্রব্য বর্জন করে স্বদেশি দ্রব্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং দেশীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা।
* শরীরচর্চা ও আত্মনির্ভরতা: তরুণ সমাজকে শারীরিকভাবে বলবান এবং মানসিকভাবে আত্মনির্ভর করে তোলার জন্য মেলায় লাঠিখেলা, কুস্তি ও জিমন্যাস্টিকস প্রভৃতি দেশীয় শরীরচর্চা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো।
* সাংস্কৃতিক মিলন: ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত ভারতবাসীকে সাংস্কৃতিক দিক থেকে একত্রিত করে এক বৃহত্তর জাতীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাও হিন্দু মেলার একটি সুপ্ত উদ্দেশ্য ছিল।
উপসংহার: যদিও হিন্দু মেলা মূলত উচ্চ ও মধ্যবিত্ত হিন্দু সমাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং এর রাজনৈতিক কর্মসূচি কম ছিল, তবুও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই মেলার গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এটিই প্রথম বাঙালির মনে স্বাদেশিকতার ধারণা গভীরভাবে গেঁথে দিয়েছিল।
৪.৪ ‘বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা’কে প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বলা হয় কেন?
উত্তর:
ভূমিকা: রাজা রামমোহন রায়ের অনুগামীদের উদ্যোগে দ্বারকানাথ ঠাকুর, গৌরীশঙ্কর তর্কবাগীশ প্রমুখের নেতৃত্বে ১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দে ‘বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐতিহাসিক ড. রাজেন্দ্রলাল মিত্র একে ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বলার কারণ:
* রাজনৈতিক আলোচনা: এই সভা মূলত ভাষা ও সাহিত্য চর্চার জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও, খুব দ্রুত এটি সমকালীন রাজনীতি, প্রশাসন এবং সরকারি নীতির সমালোচনার একটি প্রধান মঞ্চে পরিণত হয়েছিল।
* নিষ্কর জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদ: যখন ব্রিটিশ সরকার লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আমলে লাখেরাজ বা নিষ্কর জমিগুলি বাজেয়াপ্ত করার নীতি গ্রহণ করে, তখন এই সভা সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে তার তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং জনমত গঠন করে।
* নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন: এই সভাই প্রথম নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকারের কাছে আবেদন-নিবেদন এবং আলোচনার মাধ্যমে ভারতীয়দের দাবি আদায়ের পথ দেখিয়েছিল, যা পরবর্তীকালের রাজনৈতিক দলগুলির মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
* রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি: যদিও এটি একটি ক্ষুদ্র বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত হতো, তবুও এটি সমকালীন শিক্ষিত সমাজের মধ্যে রাজনৈতিক অধিকারবোধ এবং সচেতনতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল।
উপসংহার: বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভার স্থায়িত্ব খুব বেশিদিন না হলেও, এটি জমিদার সভা বা ভারত সভার মতো পরবর্তীকালের বড় বড় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলির পথপ্রদর্শক ছিল। তাই একে প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বলা সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত।
উপবিভাগ: ঘ.৩
৪.৫ ছাপা বই-এর সঙ্গে শিক্ষা বিস্তারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর:
ভূমিকা: আঠারো শতকের শেষদিকে ইউরোপীয় মিশনারিদের হাত ধরে বাংলায় ছাপাখানার উদ্ভব ঘটে। ছাপাখানার প্রসার এবং ছাপা বইয়ের প্রকাশ বাংলার শিক্ষাব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল।
ছাপা বই ও শিক্ষা বিস্তারের সম্পর্ক:
* সুলভ ও সহজলভ্য পাঠ্যপুস্তক: ছাপাখানা আবিষ্কারের আগে হাতে লেখা পুঁথি ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দুষ্প্রাপ্য। ছাপাখানার ফলে প্রচুর পরিমাণে বই ছাপা শুরু হয় এবং ছাত্রছাত্রীরা খুব অল্প দামে বা বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক হাতে পেতে শুরু করে, যা শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের নাগালে এনে দেয়।
* শিক্ষার গণতান্ত্রিকীকরণ: আগে শিক্ষা শুধুমাত্র সমাজের উচ্চবিত্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ছাপা বই সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরাও শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ পায়, ফলে শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার ঘটে।
* স্কুল বুক সোসাইটির ভূমিকা: ছাপাখানার ওপর নির্ভর করেই ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা লক্ষ লক্ষ বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্যবই ছাপিয়ে স্কুলগুলিতে বিতরণ করে বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে এক জোয়ার নিয়ে আসে।
* ভাষা ও সাহিত্যের সুনির্দিষ্ট রূপ: ছাপা বইয়ের ফলে বাংলা বানান ও ব্যাকরণের একটি নির্দিষ্ট রূপ তৈরি হয়। বিদ্যাসাগর, রামমোহন রায় প্রমুখের রচিত ব্যাকরণ ও বর্ণপরিচয়মূলক গ্রন্থগুলি মুদ্রিত হওয়ায় শিশুশিক্ষার পথ অনেক সহজ ও বিজ্ঞানসম্মত হয়।
উপসংহার: ছাপা বই বাংলার শিক্ষাব্যবস্থাকে গুটিকয়েক মানুষের হাত থেকে মুক্ত করে আপামর জনসাধারণের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিল। মুদ্রণযন্ত্রের এই নীরব বিপ্লবই উনিশ শতকের বাংলায় গণশিক্ষা ও নবজাগরণের পথ প্রশস্ত করেছিল।
৪.৬ বাংলায় বিজ্ঞান চর্চার বিকাশে ড. মহেন্দ্রলাল সরকারের কিরূপ অবদান ছিল?
উত্তর:
ভূমিকা: উনিশ শতকে ভারতের আধুনিক বিজ্ঞান চর্চার ইতিহাসে ড. মহেন্দ্রলাল সরকার ছিলেন একজন অনন্য পথিকৃৎ। তৎকালীন ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থায় ভারতীয়দের বিজ্ঞান গবেষণার কোনো সুযোগ ছিল না, এই অভাব দূর করতেই তিনি এগিয়ে আসেন।
বিজ্ঞান চর্চায় তাঁর অবদান:
* IACS প্রতিষ্ঠা: ভারতীয়দের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষা ও স্বাধীন গবেষণার প্রসারের উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স’ (IACS) প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল ভারতের প্রথম জাতীয় বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
* জাতীয় বিজ্ঞানীর সৃষ্টি: তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই বিজ্ঞান মন্দির থেকেই জগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, এবং পরবর্তীকালে সি. ভি. রমন, মেঘনাদ সাহার মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানীরা গবেষণার সুযোগ পেয়েছিলেন। সি. ভি. রমন এখান থেকেই গবেষণা করে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
* জনমানসে বিজ্ঞান চেতনা: তিনি কেবল ল্যাবরেটরিতেই বিজ্ঞানকে আবদ্ধ রাখেননি, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞান চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এখানে নিয়মিত বিজ্ঞানের নানা শাখার ওপর প্রকাশ্য বক্তৃতার আয়োজন করতেন।
* স্বদেশি বিজ্ঞানের বিকাশ: ব্রিটিশদের ওপর নির্ভর না করে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থ এবং দেশীয় বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে তিনি স্বদেশি বিজ্ঞান চর্চার এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
উপসংহার: ড. মহেন্দ্রলাল সরকার ভারতীয় বিজ্ঞানীদের জন্য গবেষণার যে মুক্ত প্রাঙ্গণ তৈরি করে দিয়েছিলেন, তা পরাধীন ভারতের বিজ্ঞান চর্চার বিকাশে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে রয়েছে। তাঁকে আধুনিক ভারতীয় বিজ্ঞানের অন্যতম রূপকার বলা যায়।
উপবিভাগ: ঘ.৪
৪.৭ ভারত সরকার, কীভাবে দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নে সংযুক্ত করার প্রশ্নিট সমাধান করেছিল?
উত্তর:
ভূমিকা: ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে প্রায় ৫৫০-এর বেশি দেশীয় রাজ্য ছিল। এই রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করা সদ্য স্বাধীন ভারতের কাছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ ছিল।
ভারত সরকারের সমাধান প্রক্রিয়া:
* সর্দার প্যাটেলের লৌহকঠিন নেতৃত্ব: ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং তাঁর সচিব ভি. পি. মেনন অত্যন্ত দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার সাথে এই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করেন। তিনি দেশীয় রাজাদের বোঝান যে ভারতের সাথে যুক্ত হওয়াই তাঁদের এবং তাঁদের প্রজাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।
* ইন্সট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশন: ভারত সরকার একটি ‘ভারতভুক্তির দলিল’ (Instrument of Accession) তৈরি করে, যেখানে রাজাদের কেবলমাত্র প্রতিরক্ষা, বিদেশ নীতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভারত সরকারের হাতে ছেড়ে দিয়ে অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসন ভোগ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
* প্রলোভন ও ভাতা প্রদান: রাজাদের রাজি করানোর জন্য ভারত সরকার তাঁদের বিশেষ মর্যাদা, প্রিভি পার্স (Privy Purse) বা রাজভাতা এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগসুবিধা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়।
* কঠোর পদক্ষেপ: বেশিরভাগ রাজ্য স্বেচ্ছায় যোগ দিলেও জুনাগড়, হায়দ্রাবাদ এবং কাশ্মীরের মতো রাজ্যগুলি টালবাহানা শুরু করে। জুনাগড়ে গণভোটের মাধ্যমে, হায়দ্রাবাদে ‘অপারেশন পোলো’ নামক পুলিশি অভিযানের মাধ্যমে এবং কাশ্মীরে মহারাজা হরি সিং-এর স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই রাজ্যগুলিকে ভারত সরকার বাধ্য হয়ে কঠোর পদক্ষেপে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে।
উপসংহার: সর্দার প্যাটেলের নীতি ও কৌশলের ফলেই মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় সমস্ত দেশীয় রাজ্য রক্তপাতহীনভাবে ভারতীয় ইউনিয়নে যুক্ত হয়, যা ভারতের আধুনিক মানচিত্র ও অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে এক অবিস্মরণীয় সাফল্য।
৪.৮ কীভাবে কাশ্মীর সমস্যার সৃষ্টি হয়।
উত্তর:
ভূমিকা: ভারতের স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সবচেয়ে জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাটি তৈরি হয়েছিল উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত কাশ্মীর রাজ্যকে কেন্দ্র করে, যা আজও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিবাদের প্রধান কারণ।
কাশ্মীর সমস্যা সৃষ্টির কারণ ও প্রেক্ষাপট:
* জনবিন্যাস ও রাজার দ্বিধা: কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিং ছিলেন একজন হিন্দু শাসক, কিন্তু কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজা ছিল মুসলিম। ভারত স্বাধীনের সময় মহারাজা হরি সিং ভারত বা পাকিস্তান কোনো দেশেই যোগ না দিয়ে কাশ্মীরকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বজায় রাখার স্বপ্ন দেখেন।
* পাকিস্তানের সশস্ত্র আক্রমণ: পাকিস্তান মনে করত মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীর তাদেরই প্রাপ্য। তাই ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে পাকিস্তান সরকার উপজাতি হানাদারদের (পাখতুন) সাহায্যে কাশ্মীরে অতর্কিত সশস্ত্র আক্রমণ চালায় এবং রাজধানী শ্রীনগরের দিকে দ্রুত এগোতে থাকে।
* ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর: পাক হানাদারদের নির্মম অত্যাচারে ভীত হয়ে মহারাজা হরি সিং ভারতের কাছে সামরিক সাহায্য প্রার্থনা করেন। ভারত সরকার শর্ত দেয় যে সাহায্য পেতে হলে কাশ্মীরকে ভারতে যোগ দিতে হবে। বাধ্য হয়ে ১৯৪৭ সালের ২৬শে অক্টোবর মহারাজা হরি সিং ‘ভারতভুক্তির দলিলে’ স্বাক্ষর করেন এবং কাশ্মীর আইনগতভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
* সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের হস্তক্ষেপ: ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে প্রবেশ করে হানাদারদের বিতাড়িত করতে শুরু করলে, ভারত সরকার বিষয়টি সম্মিলিত জাতিপুঞ্জে উত্থাপন করে। জাতিপুঞ্জের মধ্যস্থতায় ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩১শে ডিসেম্বর যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়।
উপসংহার: যুদ্ধবিরতির ফলে কাশ্মীরের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা (পাক-অধিকৃত কাশ্মীর) পাকিস্তানের দখলে থেকে যায়। গণভোটের প্রতিশ্রুতি এবং ভূখণ্ডের এই বিভাজনই কাশ্মীরকে একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত করেছে।
বিভাগ ‘ঙ’
৫। পনেরো বা ষোলোটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
৫.১ বিদ্যাসাগরের নেতৃত্বে বিধবা বিবাহ আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। বিদ্যাসাগর কতটা সাফল্য অর্জন করেছিলেন।
উত্তর:
ভূমিকা: উনিশ শতকে বাংলার সমাজ সংস্কার আন্দোলনের ইতিহাসে সতীদাহ প্রথা রদের পর দ্বিতীয় সবচেয়ে যুগান্তকারী ঘটনা ছিল পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নেতৃত্বে বিধবা বিবাহ প্রবর্তনের আন্দোলন। হাজার হাজার বাল্যবিধবাকে সমাজের নির্মম অত্যাচার থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তিনি এই মহান আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
বিধবা বিবাহ আন্দোলনের বিবরণ:
* শাস্ত্রীয় প্রমাণ সংগ্রহ: বিদ্যাসাগর গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে হিন্দু সমাজকে বদলাতে গেলে শাস্ত্রের সাহায্য লাগবে। তাই তিনি প্রাচীন ধর্মশাস্ত্রগুলি মন্থন করে পরাশর সংহিতার একটি শ্লোক উদ্ধার করেন, যেখানে বলা হয়েছে “নষ্টে মৃতে প্রব্রজিতে ক্লীবে চ পতিতে পতৌ। পঞ্চস্বাপৎসু নারীণাং পতিরণ্যো বিধীয়তে।” অর্থাৎ, বিশেষ আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বিধবাদের পুনর্বিবাহ শাস্ত্রসম্মত।
* পুস্তিকা প্রকাশ ও প্রচার: তিনি ‘বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব’ নামক পুস্তিকা প্রকাশ করে প্রমাণ করেন যে বিধবা বিবাহ হিন্দু ধর্ম বিরুদ্ধ নয়। তাঁর এই লেখনী রক্ষণশীল হিন্দু সমাজে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করে।
* বিরোধীদের মোকাবিলা: রাজা রাধাকান্ত দেবের নেতৃত্বে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ বিদ্যাসাগরের এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে। তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
* সরকারের কাছে আবেদন: তিনি প্রায় হাজার মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি আবেদনপত্র ব্রিটিশ সরকারের কাছে জমা দেন বিধবা বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।
বিদ্যাসাগরের সাফল্য:
* আইন পাস: বিদ্যাসাগরের যুক্তির কাছে নতিস্বীকার করে ব্রিটিশ সরকার লর্ড ডালহৌসির উদ্যোগে এবং ক্যানিংয়ের আমলে ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে জুলাই ‘হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন’ (Hindu Widows’ Remarriage Act) পাস করে বিধবা বিবাহকে আইনত বৈধ ঘোষণা করে।
* প্রথম বিবাহ আয়োজন: আইন পাসের পর ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই ডিসেম্বর বিদ্যাসাগর নিজের উদ্যোগে এবং প্রচুর অর্থ ব্যয় করে শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন ও কালিমতী দেবীর মধ্যে প্রথম বৈধ বিধবা বিবাহের আয়োজন করে এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেন। তিনি তাঁর নিজের পুত্রের সাথেও এক বিধবার বিবাহ দিয়েছিলেন।
উপসংহার: আইনি স্বীকৃতি পেলেও তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজে বিধবা বিবাহ ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারেনি। তবে বিদ্যাসাগরের এই আন্দোলন নারী স্বাধীনতার ইতিহাসে এক অসীম সাহসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে এক মৌলিক পরিবর্তন এনেছিল।
৫.২ বাংলায় কারিগরী শিক্ষার বিকাশের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর:
ভূমিকা: উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ব্রিটিশ সরকারের কেরানি তৈরির শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে বেরিয়ে এসে স্বদেশি শিল্প ও কারিগরি ক্ষেত্রে ভারতীয়দের স্বনির্ভর করে তোলার জন্য বাংলায় কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিকাশ শুরু হয়।
কারিগরী শিক্ষার বিকাশের বিবরণ:
* প্রাথমিক উদ্যোগ: কারিগরি শিক্ষার প্রথম সরকারি উদ্যোগ ছিল ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে প্রতিষ্ঠিত ক্যালকাটা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, যা পরে শিবপুরে স্থানান্তরিত হয়ে বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ) নামে পরিচিত হয়। এখানে মূলত ওভারসিয়ার এবং ড্রাফটসম্যান তৈরি করা হতো।
* স্বদেশি আন্দোলনের প্রভাব: ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের সময় জাতীয় স্তরে কারিগরি শিক্ষার প্রসার এক নতুন মাত্রা পায়। বিদেশি পণ্য ও ঔপনিবেশিক শিক্ষাকে বর্জন করে দেশীয় শিল্পের প্রসারের জন্য কারিগরি জ্ঞানের প্রয়োজন তীব্রভাবে অনুভূত হয়।
* জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠন: স্বদেশি শিক্ষার প্রসারের জন্য ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে তারকনাথ পালিত, রাসবিহারী ঘোষ, অরবিন্দ ঘোষ প্রমুখের উদ্যোগে ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ বা National Council of Education (NCE) গঠিত হয়, যার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল সাহিত্য ও বিজ্ঞানের সাথে সাথে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো।
* বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (BTI): তারকনাথ পালিতের জমি ও বিপুল আর্থিক অনুদানে ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জুলাই ‘বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন প্রমথনাথ বসু। এখানে সম্পূর্ণ দেশীয় ব্যবস্থাপনায় মেকানিকাল, ইলেকট্রিকাল এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো আধুনিক কারিগরি বিষয়ে শিক্ষাদান শুরু হয়।
* যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়: পরবর্তীতে ১৯২৮ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (CET) নামে পরিচিত হয় এবং স্বাধীনতার পর ১৯৫৫ সালে এটি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
উপসংহার: শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে শুরু করে বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার এই ধারাবাহিক যাত্রাই বাংলায় আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ভিতকে মজবুত করেছিল, যা পরাধীন ভারতে স্বদেশি শিল্প ও অর্থনীতিকে আত্মনির্ভর হওয়ার পথ দেখিয়েছিল।
৫.৩ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে নারী সমাজ কীভাবে অংশগ্রহণ করেছিল? তাদের আন্দোলনের ‘সীমাবদ্ধতা কী?
উত্তর:
ভূমিকা: ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, কারণ এই আন্দোলনেই বাংলার নারী সমাজ প্রথমবারের মতো ঘরের চার দেওয়াল পেরিয়ে রাজপথে এসে প্রকাশ্য রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল।
নারী সমাজের অংশগ্রহণ:
* অরন্ধন পালন: কার্জন যেদিন বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন (১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর), সেদিন রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর আহ্বানে বাংলার ঘরে ঘরে মহিলারা উনুন না জ্বালিয়ে ‘অরন্ধন’ পালন করেন এবং দেশভাগের প্রতি গভীর শোক ও প্রতিবাদ জানান।
* রাখিবন্ধন উৎসব: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে ওইদিন রাখিবন্ধন উৎসব পালিত হয়, যেখানে হিন্দু ও মুসলিম নারীরা একে অপরের হাতে রাখি পরিয়ে দিয়ে বাংলার অটুট সাম্প্রদায়িক ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন।
* বিদেশি দ্রব্য বর্জন: স্বদেশি আন্দোলনের মূল মন্ত্র ছিল বিদেশি দ্রব্য বর্জন। বাংলার মেয়েরা বিদেশি কাঁচের চুড়ি, বিদেশি সিল্কের শাড়ি এবং বিলাতি বাসনপত্র ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এমনকি রান্নার কাজে বিলাতি নুনের বদলে দেশি নুন ব্যবহার শুরু হয়।
* স্বদেশি শিল্পের প্রসার ও তহবিল গঠন: সরলা দেবী চৌধুরানী দেশীয় পণ্যের প্রসারের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রতিষ্ঠা করেন। অনেক মহিলারা চরকায় সুতো কেটে স্বদেশি বস্ত্র বুনতে শুরু করেন। তাছাড়া আন্দোলনের খরচের জন্য মহিলারা তাঁদের সোনার গয়না এবং জমানো টাকা ‘স্বদেশি ভাণ্ডারে’ অকাতরে দান করেছিলেন।
* নেতৃত্ব দান: সরলা দেবী চৌধুরানী, ভগিনী নিবেদিতা, কুমুদিনী বসু প্রমুখ নারী নেত্রীরা সভা-সমিতিতে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে সাধারণ মহিলাদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করেছিলেন।
আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা:
* মধ্যবিত্ত ও শহুরে পরিধি: নারী সমাজের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ মূলত কলকাতা কেন্দ্রিক এবং শিক্ষিত, উচ্চবর্ণের ও মধ্যবিত্ত হিন্দু পরিবারের মহিলাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
* কৃষক ও নিম্নবিত্ত নারীদের অনুপস্থিতি: গ্রামের সাধারণ কৃষক পরিবারের মহিলারা এবং মুসলিম নারীদের বৃহত্তর অংশ এই আন্দোলন থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল, যা এই আন্দোলনকে সর্বজনীন রূপ দিতে ব্যর্থ হয়।
উপসংহার: কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে বাংলার নারীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ ভারতের নারীমুক্তি ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল, যা পরবর্তীকালে গান্ধিজির আন্দোলনে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করেছিল।
বিভাগ ‘চ’ (কেবলমাত্র বহিরাগত পরীক্ষার্থীদের জন্য)
৬.১ একটি সম্পূর্ণ বাক্যে উত্তর দাও:
৬.১.১ ‘নীল্পদর্পণ’ নাটকটির রচয়িতা কে?
উত্তর: ‘নীলদর্পণ’ নাটকটির রচয়িতা হলেন দীনবন্ধু মিত্র।
৬.১.২ হিন্দু কলেজ কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: হিন্দু কলেজ ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়।
৬.১.৩ ‘আনন্দমঠ’ কে রচনা করেন?
উত্তর: ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচনা করেন।
৬.১.৪ কত খ্রিস্টাব্দে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয়।
৬.১.৫ ‘মাস্টারদা’ নামে কে পরিচিত ছিলেন?
উত্তর: ‘মাস্টারদা’ নামে বিপ্লবী সূর্য সেন পরিচিত ছিলেন।
৬.১.৬ নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস-এর প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর: নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (AITUC)-এর প্রথম সভাপতি ছিলেন লালা লাজপত রায়।
৬.২ দু’টি বা তিনটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
৬.২.১ ডেভিড হেয়ার স্মরণীয় কেন?
উত্তর: ডেভিড হেয়ার পেশায় একজন ঘড়ি-নির্মাতা হলেও, তিনি তাঁর সমগ্র জীবন ও সম্পদ বাংলার শিক্ষা বিস্তারের কাজে ব্যয় করেছিলেন। তিনি হিন্দু কলেজ (১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে), হেয়ার স্কুল এবং ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্ঠার পেছনে প্রধান উদ্যোগী ছিলেন বলে বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি চিরস্মরণীয়।
৬.২.২ ‘বিপ্লব’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ‘বিপ্লব’ বলতে বোঝায় প্রচলিত কোনো ব্যবস্থা, সমাজ, রাজনীতি বা অর্থনীতির দ্রুত, আকস্মিক এবং আমূল পরিবর্তন। যেমন, ফরাসি বিপ্লব বা রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লব একটি দেশের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামোর ভিত্তি সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছিল।
৬.২.৩ ‘রসিদ আলি দিবস’ কেন পালিত হয়েছিল?
উত্তর: আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন রসিদ আলির বিচারে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হলে, তার প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের ১১-১৩ই ফেব্রুয়ারি কলকাতায় প্রবল গণআন্দোলন গড়ে তোলে। রসিদ আলির মুক্তির দাবিতে ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘রসিদ আলি দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়েছিল।
৬.২.৪ ‘ভারতভুক্তির দলিল’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ‘ভারতভুক্তির দলিল’ (Instrument of Accession) হলো ভারত স্বাধীন হওয়ার পর দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ভারত সরকারের তৈরি করা একটি চুক্তিনামা। এই দলিলে স্বাক্ষর করে দেশীয় রাজারা প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক নীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভারত সরকারের হাতে তুলে দিয়ে ভারতের সাথে যুক্ত হতেন।

